Posts

'কোথায় পাবো তারে' প্রসঙ্গে...

 "ভূতের গলির লোকেরা পুনরায় এক জটিলতার ভেতরে পড়ে এবং..." হয়তো একটি সন্ধ্যা। ভেরি মাচ অ্যাবসার্ড। তারপর একটি গল্প। হয়তো একটিমাত্রই শহীদুল জহির। হয়তো সেই গল্পের নাম 'কোথায় পাব তারে'। আবার সেই ভূতের গলি। শুধু আবার নয়। আবার আবার। এই শহরের নানাবিধ ক্যায়োসের ভীড়ে— ভালো লাগে কেবল শহীদুল জহিরের মহল্লার ক্যায়োস। বিফোর ডিসকভারিং শহীদুল জহির— আর আফটার রিডিং শহীদুল জহির— এ যেন দুটো ভিন্ন জগৎ। দুটো ভিন্ন আমি, তুমি, আমরা। এই মহল্লার লুপের স্বাদ বড় ভিন্ন।  "... ফলে মহল্লার লোকদের রাতের ঘুম বিঘ্নিত হয়, সারা দিনের কর্মক্লান্ত দেহ নিয়ে তারা বিছানায় জেগে থাকে, জীবনের ব্যর্থতা এবং অপচয় বোধ তাদেরকে গ্রাস করতে উদ্যত হয় এবং তারা কেমন বিষণ্ন হয়ে পড়ে; তারা মনে করে যে বেকার থাকাই তো ভালো আবদুল করিমের মতো..." একজন আবদুল করিম'কে আমরা আর ভুলতে পারি না। আমরা ভাবতে থাকি। আমরা ভাবি আবদুল করিমের জুতার ফিতার জট বুঝি কোনোদিন আর খুলবে না। বা হয়তো খুলবে। তখন আমরা আনন্দ পাবো। এই বুঝি শেপালি'কে দেখতে পাবো আমরা।  যেদিকে হাঁটলে পায়ের তলায় আরাম লাগে, আমরা সেইদিকে হাঁটতে চাই, মনে মনে। বা আমরা ...

লিপিবদ্ধ স্রোতের মত দিনগুলো সব— ফাঁকা মানুষের মত— অস্থিসার।

Image
 

তারকোভস্কির কুয়াশার মতো...

Image
 

Ancient

Image
 

Don't Talk When You Are In Front Of Almond Blossom

She keeps the windows of her body open The wind comes, the wind goes Her longing eyes— her secret spring.. Sweet orchard days O flowering almond— I can see your ardours to bloom And when fresh air touches your naked branches It reminds me of those dreams I hate waking up from

আলোকচিত্র ।। সাহরান মোর্শেদ

Image

কবিতার পোষাক ।। সাহরান মোর্শেদ

কবিতার পোষাক ❑ তাহলে আলোচনা চলুক প্রেম কিংবা প্রেমহীনতা আমাদের এই একটাই যোগ্যতা— অননুমানযোগ্যতা আলোতে ভিজিয়ে এনে কাগজগুলো শব্দের জল দিয়ে আলোকিত করতে আমরাও কিছুটা গোছগাছ করতে জানি।

সুইসাইড নোট ।। সাহরান মোর্শেদ

সুইসাইড নোট ❑ আমার মৃত্যুর ঠিক পঁচিশ সেকেন্ড আগে— আমি তোমার হৃদ কম্পন ছুঁয়ে দেখতে চাই তোমাকে জানানোর আছে যা তা জানানো হয়নি তাই ঠিক পনের সেকেন্ড আগে তোমাকে আমার বুকে হাত রাখতে হবে সব বুঝে নিতে হবে অ্যাস্ট্রের ভেতর কিছু কথা রেখেছি কথা, কথা। বাংলা বর্ণমালা ত, ম এসব মিলিয়েই কিছু একটা কী যে লিখলাম থাক, এখন মনে করতে পারছি না আমার ড্রয়ারে কতগুলো বিষাদের প্যাকেট আছে ওগুলো ফেলে দাও আর খোসাগুলো ময়লা রাখার পাত্রে রাখো ওগুলো কীসের খোসা? কিছু একটা হবে। হোক যা কিছু ব্যথার ছবি আঁকবো ভেবে আঁকতে পারছি না কেমন লাগে বলো তো? কাঁদবো ভেবে কাঁদতে পারছি না কেমন লাগে বলো তো? কী যেন লেখা শুরু করে ফেলে রেখেছি সাদা কাগজ কাগজে মোড়ানো আমার লাশ আমার সামনে একটা সাদা রঙের কবুতর ডাকতে ডাকতে উড়ে যায় ওর তো আর ক্ষমতা নেই তাই ঠিক দশ সেকেন্ড আগে আমার পায়ের তলা থেকে চেয়ারটা তুমি সরিয়ে দিয়ো।

আলোকচিত্র ।। সাহরান মোর্শেদ

Image

অপরিচিত ভাষা ।। সাহরান মোর্শেদ

কুড়িয়ে আনা একমুঠো রোদ্দুর জলের উঁনুন কিংবা আদুরে চোখ তোমার ময়লা জামার বোতামে— একটা হাতুড়ে সাপ। রক্তের মত চোখের ভাষা বুঝে ফ্যালে!

ঘোর ।। সাহরান মোর্শেদ

আমার থেকে আমার লুকিয়ে থাকা— তোমার চোখে পথ হয়ে দেখা দেয় পুরোনো এপিটাফ আমার। পদ্যের মত সুন্দর তোমার বিষণ্নতা কি দারুণ চেয়ে থাকো! আমার থেকে আমার হারিয়ে যাওয়া— বড়ই ভালো লাগে তোমার আমার আত্মাকে মূলতঃ স্বর্গে রেখে এসেছি ঈশ্বর ঘুমিয়ে ছিলেন অথচ তাকে কখনো দেখা হলো না— যে আমাকে ভালোবেসে স্বর্গের পথ দেখালো হাতে হাত রেখে রোদ্দুরের পথে হেঁটেছিলাম আমার মনে পড়ে আমার বুকের পাশে যে হ্রদ বয়ে চলে সেখানে বন্দী করে রাখি পরাজয় আমি দাঁড়িয়ে থাকি একা ঢেউয়ের চোখে দেখি পুরোনো পৃথিবী সেদিন লিখছিলাম 'সুইসাইড নোট' কিন্তু কোথাও 'মৃত্যু' লিখলাম না কি লিখলাম তবে? স্বর্গ নিয়ে? কত রাত আমার বাড়ি ফিরে আসে আমাকে খুঁজে পায় না আমাকে ডেকে রোজ আমায় চিঠি দিয়ে যায় খামে বন্দী— একাকীত্ব। সে বড় একা। জেলখানার মত একা আমার মত একা তার সাথে গোপনে একদিন দেখা হওয়ার কথা ছিলো আলাপ হওয়ার কথা ছিলো কফিনের গায়ে আমার দুঃখের কোলবালিশ শুয়ে ছিলাম দুঃখ নিয়ে তার সাথে দেখা হলে— আমার কোনো অনিশ্চয়তা থাকতো না তুমুল নেশার চোখে দেখি— পৃথিবীর খুব কাছে চলে এসেছি একা একা ভরা শূন্যতায়, কালো মেঘের চাদর জ...

শেষ বার্তা ।। সাহরান মোর্শেদ

আগুনের পথ আমার স্পর্শ করা আগুন রাজপথের ক্লান্ত পিচঢালা পথ পৃথিবী ছুঁয়ে দ্যাখা যাক! অন্ধ চোখে ভোর হয় রৌদ্র নামে শ্যাওলা ধরা স্মৃতির ইতিহাসের বুকে সিগারেট নিভে গেলে— যেন তারা খসে পড়ে পরিচিত সাদাকালো শহরে আমার। মানুষের চোখে মোম গলে বিষাদের বর্ণমালা উচ্চারিত হবে কি? কে পড়বে শেষ বার্তা, পৃথিবীর?

চোখ ।। সাহরান মোর্শেদ

অস্পষ্ট অক্ষর হয়ে আসো জোড়া চোখে অভিমানী চোখে যে চোখ স্বপ্ন দ্যাখে না বহুদিন যে চোখে কোনো কথা নেই এই চোখেই কি তবে জন্মে গ্যাছে মৃত্যুবোধ? আঁধারের অন্তর্বাস খুলে— একটা ক্ষত মরুভূমি যেমন ধূসর চেয়ে থাকে পাখিদের চিৎকারের মত তেমন চোখ জোড়া খু্ঁজি ঠিক যেন বৈধ আত্মহত্যা! আমার ভীষণ দুঃখ হয়, জানো? কত শত ভোর চলে গ্যালো তোমায় দেখতে পেলাম না কোথাও!

আরশি ।। সাহরান মোর্শেদ

একটা শুকনো তীর কিছু উন্মাদ ভাবনা, ছবি, থেমে যাওয়া কল্পনা ভেবে নিয়েছি এখন বর্ষাকাল অনেকটা আক্ষেপ আমরা আমাদের প্রিয়জন প্রতিফলিত চোখ দুটো রাখি অন্ধ শিশুটির হাতে চোখভর্তি রাত দেখি শুয়ে থেকে মাটির গুহায় বৃষ্টিভেজা মুখ। চিনতে পারো আমায়? অপেক্ষায় অপেক্ষায় তীর ভেদ করে যায় বুক পথভ্রষ্ট উৎসব আমাকে শেষ কবে তোমার কবিতায় আরশি থেকে নিম্নতম দূরত্বে দেখেছিলে?

ফিরো এসো মন ।। সাহরান মোর্শেদ

তবু এই শ্রাবণেও- তুমি বাঁচিয়েছো একটি তরল আত্মা। তুমি ভুলে আশা দিয়ে ফ্যালো কিন্তু আসলে কোনো সূর্যোদয় নেই। যতটা এসেছিলে- ততটা যাওয়া সহজ। তারাদের মিটিমিটি মিছিলে, আমার হারানোর আবেদন। ঠিক যেন শক্ত কোনো এক পাথরের বুক- বেঁচে ছিলো কয়েকশ বছর। কেবল বেঁচেই ছিলো! বেড়েছে কেবল বিষাদের পদ্য! হাহাকার বাড়লে আমি কি আবার তোমার পথে নির্বাক তাকিয়ে থাকবো?

স্বপ্নঘর ।। সাহরান মোর্শেদ

স্বপ্নিল একজোড়া চোখ কিনতে গিয়ে- সেদিন পথে কুড়িয়ে পেয়েছিলাম একজোড়া লাল গোলাপ। ঘোলাটে বিকেল, আমাকে ছেড়েই বেড়ে উঠছে আমার বাগান বাগানে স্বপ্নঘর রূপকথা ঝুলে থাকে এবং সূর্যের আলোয় পথ শুরু হয়। দূরত্ব বাড়ুক উৎসাহ বাড়ুক দূরত্ব না থাকলে নির্বাসিত আলো দেখতে পাওয়া যায় না। ধ্বংস আর সাদা ক্রুশের স্লোগান। বেশ তো! প্রিয় স্বপ্নঘর, আমি এক বিভ্রান্ত পথিক। প্রেমিকার ঠোঁট ছুঁয়ে যাওয়া বোকা প্রেমিক।

তুমি তো চলেই যেতে ।। সাহরান মোর্শেদ

তুমি তো চলেই যেতে- এভাবেই, নিঃশব্দে কেউ জানলো না জানলো কেবল নিশাচর বিষাদপূর্ণ নিঃশ্বাস আমার। ধরো- আজ আমার ভীষণ জ্বর আমায় তুমি দেখতে এলে রেখে গেলে নির্বোধ স্পর্শ। এমন হতে পারতো! মদ খেলে তোমার উপস্থিতি টের পাই মুমুর্ষ লাগে রাজপথে পড়ে থাকি ঠিক যেন খুচরো কাঁচের টুকরো! পরাজয়ের বোবা কান্না শুনতে পেলো বিচ্ছেদ কিংবা তোমার শেষ চিঠি ছেড়ে হাতে নিয়ে আছি সিগারেট! তোমার প্রতিশ্রুতি ছিলো- অহেতুক, বিষাক্ত ছিহ্! সংকুচিত লাগে চারপাশ এমন দিনকাল ফেরত নাও ঠিক যেন গ্লাসভর্তি অন্ধকার, ক্লান্ত বৃষ্টি। চোখের ভেতর মৃত নদী, ভেসে যাচ্ছি কিছুকাল নতুন করে ভোর হওয়া চোখ মেলি আবার টের পাই পিছুটান। তুমি তো চলেই যেতে...