Posts

সুইসাইড নোট ।। সাহরান মোর্শেদ

সুইসাইড নোট ❑ আমার মৃত্যুর ঠিক পঁচিশ সেকেন্ড আগে— আমি তোমার হৃদ কম্পন ছুঁয়ে দেখতে চাই তোমাকে জানানোর আছে যা তা জানানো হয়নি তাই ঠিক পনের সেকেন্ড আগে তোমাকে আমার বুকে হাত রাখতে হবে সব বুঝে নিতে হবে অ্যাস্ট্রের ভেতর কিছু কথা রেখেছি কথা, কথা। বাংলা বর্ণমালা ত, ম এসব মিলিয়েই কিছু একটা কী যে লিখলাম থাক, এখন মনে করতে পারছি না আমার ড্রয়ারে কতগুলো বিষাদের প্যাকেট আছে ওগুলো ফেলে দাও আর খোসাগুলো ময়লা রাখার পাত্রে রাখো ওগুলো কীসের খোসা? কিছু একটা হবে। হোক যা কিছু ব্যথার ছবি আঁকবো ভেবে আঁকতে পারছি না কেমন লাগে বলো তো? কাঁদবো ভেবে কাঁদতে পারছি না কেমন লাগে বলো তো? কী যেন লেখা শুরু করে ফেলে রেখেছি সাদা কাগজ কাগজে মোড়ানো আমার লাশ আমার সামনে একটা সাদা রঙের কবুতর ডাকতে ডাকতে উড়ে যায় ওর তো আর ক্ষমতা নেই তাই ঠিক দশ সেকেন্ড আগে আমার পায়ের তলা থেকে চেয়ারটা তুমি সরিয়ে দিয়ো।

আলোকচিত্র ।। সাহরান মোর্শেদ

Image

অপরিচিত ভাষা ।। সাহরান মোর্শেদ

কুড়িয়ে আনা একমুঠো রোদ্দুর জলের উঁনুন কিংবা আদুরে চোখ তোমার ময়লা জামার বোতামে— একটা হাতুড়ে সাপ। রক্তের মত চোখের ভাষা বুঝে ফ্যালে!

ঘোর ।। সাহরান মোর্শেদ

আমার থেকে আমার লুকিয়ে থাকা— তোমার চোখে পথ হয়ে দেখা দেয় পুরোনো এপিটাফ আমার। পদ্যের মত সুন্দর তোমার বিষণ্নতা কি দারুণ চেয়ে থাকো! আমার থেকে আমার হারিয়ে যাওয়া— বড়ই ভালো লাগে তোমার আমার আত্মাকে মূলতঃ স্বর্গে রেখে এসেছি ঈশ্বর ঘুমিয়ে ছিলেন অথচ তাকে কখনো দেখা হলো না— যে আমাকে ভালোবেসে স্বর্গের পথ দেখালো হাতে হাত রেখে রোদ্দুরের পথে হেঁটেছিলাম আমার মনে পড়ে আমার বুকের পাশে যে হ্রদ বয়ে চলে সেখানে বন্দী করে রাখি পরাজয় আমি দাঁড়িয়ে থাকি একা ঢেউয়ের চোখে দেখি পুরোনো পৃথিবী সেদিন লিখছিলাম 'সুইসাইড নোট' কিন্তু কোথাও 'মৃত্যু' লিখলাম না কি লিখলাম তবে? স্বর্গ নিয়ে? কত রাত আমার বাড়ি ফিরে আসে আমাকে খুঁজে পায় না আমাকে ডেকে রোজ আমায় চিঠি দিয়ে যায় খামে বন্দী— একাকীত্ব। সে বড় একা। জেলখানার মত একা আমার মত একা তার সাথে গোপনে একদিন দেখা হওয়ার কথা ছিলো আলাপ হওয়ার কথা ছিলো কফিনের গায়ে আমার দুঃখের কোলবালিশ শুয়ে ছিলাম দুঃখ নিয়ে তার সাথে দেখা হলে— আমার কোনো অনিশ্চয়তা থাকতো না তুমুল নেশার চোখে দেখি— পৃথিবীর খুব কাছে চলে এসেছি একা একা ভরা শূন্যতায়, কালো মেঘের চাদর জ...

শেষ বার্তা ।। সাহরান মোর্শেদ

আগুনের পথ আমার স্পর্শ করা আগুন রাজপথের ক্লান্ত পিচঢালা পথ পৃথিবী ছুঁয়ে দ্যাখা যাক! অন্ধ চোখে ভোর হয় রৌদ্র নামে শ্যাওলা ধরা স্মৃতির ইতিহাসের বুকে সিগারেট নিভে গেলে— যেন তারা খসে পড়ে পরিচিত সাদাকালো শহরে আমার। মানুষের চোখে মোম গলে বিষাদের বর্ণমালা উচ্চারিত হবে কি? কে পড়বে শেষ বার্তা, পৃথিবীর?

চোখ ।। সাহরান মোর্শেদ

অস্পষ্ট অক্ষর হয়ে আসো জোড়া চোখে অভিমানী চোখে যে চোখ স্বপ্ন দ্যাখে না বহুদিন যে চোখে কোনো কথা নেই এই চোখেই কি তবে জন্মে গ্যাছে মৃত্যুবোধ? আঁধারের অন্তর্বাস খুলে— একটা ক্ষত মরুভূমি যেমন ধূসর চেয়ে থাকে পাখিদের চিৎকারের মত তেমন চোখ জোড়া খু্ঁজি ঠিক যেন বৈধ আত্মহত্যা! আমার ভীষণ দুঃখ হয়, জানো? কত শত ভোর চলে গ্যালো তোমায় দেখতে পেলাম না কোথাও!

আরশি ।। সাহরান মোর্শেদ

একটা শুকনো তীর কিছু উন্মাদ ভাবনা, ছবি, থেমে যাওয়া কল্পনা ভেবে নিয়েছি এখন বর্ষাকাল অনেকটা আক্ষেপ আমরা আমাদের প্রিয়জন প্রতিফলিত চোখ দুটো রাখি অন্ধ শিশুটির হাতে চোখভর্তি রাত দেখি শুয়ে থেকে মাটির গুহায় বৃষ্টিভেজা মুখ। চিনতে পারো আমায়? অপেক্ষায় অপেক্ষায় তীর ভেদ করে যায় বুক পথভ্রষ্ট উৎসব আমাকে শেষ কবে তোমার কবিতায় আরশি থেকে নিম্নতম দূরত্বে দেখেছিলে?